01719606713 ebadbinsiddik@gmail.com

Bangla

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ

(আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী গ্রাজুয়েটদের সামাজিক সংগঠন)

রেজিঃ নং-এস-১০৫৫১.২০০৯ ইং

 

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পরিচয় ও উত্সঃ

সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে ইসলামী শিক্ষা–সংস্কৃতির  বহমান স্রোতধারার তাগীদে অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের বাংলাদেশের জ্ঞান পিপাসু ছাত্ররাও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান আহরণার্থে ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবীর সুপ্রাচীন ও বৃহত্তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মিশরের    আল-আযহারেও বাংলাদেশী ছাত্রদের ক্রমবৃদ্ধি বর্তমানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রতিবছর এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বû সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্র উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করে কর্ম জীবনে পদার্পণ করছে। সফল দাওয়াতী কর্ম ও আদর্শ সমাজ গঠনে তাদের প্রয়োজন এক সুশৃঙ্খল পথপরিক্রমা ও যৌথ কর্মতত্পরতা। এ মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে স্বার্থক ও ফলপ্রসূ করার নিমিত্তে আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ এর আত্মপ্রকাশ।

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নও সমাজকল্যান মূলক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এ সংগঠন।বিগত ০১-১০-১৪২৬হিজরী মোতাবেক ০৩-১১-২০০৫ ইং তারিখে কায়রো শহর থেকে এর যাত্রা ïi“ হয় এবং পরবর্তীতে ১৭-১১-২০০৯ইং তারিখে বাংলাদেশে এর সরকারী রেজিঃসম্পন্ন হয়।

 

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

মহান আল্লাহর সন্ত্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ এর মৌলিক উদ্দেশ্য সমূহ নিম্নরুপঃ

১- শিক্ষা ও সংস্কৃতি ।

২- দাওয়াত ও সংস্কার ।

৩- সেবা ও কল্যান ।

 

কার্যক্রমঃ  

(ক) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমঃ

১.বাস্তবমুখী ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করে মাদ্রাসা, স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

২.আরবী ভাষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উন্নতমানের শিক্ষা কার্যক্রম তৈরী ও তা বাস্তবায়নে সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

৩.আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচছুক ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যাবতীয় পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগীতা প্রদান।

৪.আল আযহারের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা।

৫.ইসলামী সাহিত্যের প্রচার প্রসারে  বিভিন্ন পত্রিকা,সাময়িকী অনুবাদ,গবেষণামূলক গ্রন্হ রচনা ও প্রকাশ।

৬.হিফজুল কুরআন,হিফজুল হাদীছ,সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে রচনা ও সাধারণজ্ঞান প্রতিযোগীতার ব্যবস্হা।

৭.শিক্ষা সফর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

৮.ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন।

 

(খ) দাওয়াত ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমঃ

১.সকল সদস্যদের মাঝে আত্মশুদ্ধির নিয়মিত চর্চা।

২.তাওহীদ, রেসালত ও সুন্নাতে রাসুলের প্রতি আহবানের পাশাপাশি শিরক, বিদআত ও কু-সংস্কার সম্পর্কে সচেতন করা।

৩.মসজিদ ভিত্তিক বিভিন্ন দাওয়াতী কর্মসূচী গ্রহণ করে ইসলামের সঠিক পরিচয় তুলে ধরা।।

৪.গ্রন্হাগার ও ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

৫.সমকালীন বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য শরীয়া বোর্ড গঠন এবং যোগ্য ওলামায়েকেরামের মাধ্যমে তা পরিচালনা।

৬.সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সন্ত্রাস,দূর্নীতি ও অস্হিতিশিলতা রোধে ইসলামের সঠিক দিকনিদের্শনা তুলে ধরা।

৭.গণমাধ্যমে লেখা-লেখি ও আলোচনার মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনা বৃদ্ধি করা।

৮.ধুমপান, মাদকদ্রব্য, যৌতুক, অশ্লিলতা ও সকল প্রকার মানবতা বিরোধী কার্যকলাপ হতে সতর্ক করা।

(গ) সেবা ও কল্যানমূলক কার্যক্রমঃ

১.ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক সহযোগীতাও বৃত্তির ব্যবস্হা করা।

২.আর্থিক উন্নতি সাধনে বিভিন্ন বিনোয়োগ প্রকল্প ও সুদ মুক্ত ঋণের ব্যবস্হা করা।

৩.এতিম,বিধবা,কর্মক্ষম ও বিবাহ ইচ্ছুক অসহায় যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।

৪.দাতব্য চিকিত্সালয় গড়ে তু্লে দুস্হ মানবতার সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ।

৫.বেকারত্ব দূরকরণে কর্ম সংস্হার ব্যবস্হা করা।

৬.বন্যা,নদী ভাঙন ও বিভিন্ন দুর্যোগ কবলিত এলাকায় সাহায্য সহযোগীতা করা।

৭.পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপন ও অন্যান্য প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৮.সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যান মূলক কাজে অংশগ্রহণ করা।

 

সাংগঠনিক কাঠামোঃ

সংগঠনের সদস্য পদ তিন ভাগে বিভক্তঃ

(১) সদস্য (২) সহযোগী সদস্য (৩)সম্মানী সদস্য।

সংগঠনের মূলনীতি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের সাথে একমত হওয়ার শর্তে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সদস্যপদ নির্ধারিত হবে।

 

১.সদস্যঃ

নূন্যতম আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রী ধারী যে কোন বাংলাদেশী নাগরীক সদস্য হতে পারবেন। কেবল এ ধরনের সদস্যরা  কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে ভোট প্রদান ও সংবিধানে নির্ধারীত শর্ত সাপেক্ষে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

২.সহযোগী সদস্যঃ

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোন অনুষদ, কোর্সে বর্তমানে অধ্যয়ন করছেন বা পূর্বে কোন কোর্সে অংশ গ্রহণ করেছেন অথবা মিশরের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এমন যে কোন বাংলাদেশী সহযোগী সদস্য হতে পারবেন।

 

৩.সম্মানী সদস্যঃ

উপরোক্ত দু’ধরনের সদস্য ব্যতিত যিনি সংগঠনের প্রতি আন্তরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন তিনি সম্মানী সদস্য হতে পারবেন।

 

সদস্য হওয়ার নিয়মাবলীঃ

-ফরম পূরণ।

-নির্ধারিত ভর্তি ফি আদায়।

-প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের সংযুক্তি।

-উল্লেখ্য, সদস্য হিসেবে গৃহিত হওয়ার জন্য কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

 

করনীয় ও বর্জনীয়ঃ

-শরীয়ত পরিপন্হী, নৈতিকতা ও সংগঠন বিরোধী কোন কাজে লিপ্ত না হওয়া।

-সর্বদা সংগঠনের সকল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

-সংগঠন কতৃক আরোপিত যে কোন দায়ীত্ব পালনে বাধ্য থাকা।

-সংগঠনের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নে সচেষ্ঠ হওয়া।

-নিয়মিত মাসিক ও অন্যান্য চাঁদা আদায় করা।

-সংগঠনের বৈঠক ও অনুষ্ঠান সমূহে যথাসময়ে উপস্হিত থাকা।

 

পরিচালনা পরিষদঃ

এ পরিষদ তিন ভাগে বিভক্তঃ

১.উপদেষ্টা পরিষদ।

২.কার্যকরী পরিষদ।এ পরিষদ-ই সোসাইটির মূল কার্যনির্বাহী পরিষদ।সুতরাং এ পরিষদ অন্যান্য পরিষদ,কমিটি,উপকমিটি গঠন ও বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

৩.শাখা পরিষদ। কার্যকরী পরিষদের অধিনে একাধিক শাখা পরিষদ থাকতে পারে।শাখা পরিষদ সর্বদা কার্যকরী পরিষদের সাথে যোগাযোগের ভিত্তিতে শাখায় সংগঠনের যাবতীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবে।

কায়রো পরিষদঃ

বর্তমানে এ পরিষদ একমাত্র শাখা পরিষদ হিসেবে বিবেচিত।এ পরিষদ এক বছর পর পর নবায়ন করা হবে। কার্যকরী পরিষদের তত্ত্বাবধানে মিশরে অবস্হানরত  সকল সদস্য, সহযোগী সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী এ পরিষদের পরিচালনা কমিটি নির্বাচন করবে।প্রতি বছর ১লা জানুয়ারী হতে এর কার্য দিবস ïi“ হবে।

শেষ কথাঃ

সকল আযহারী ভাইদের প্রতি থাকল দেশ ও সমাজ গঠনে আত্ননিয়োগের উদাত্ব আহবান এবং আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগীতা ও মূল্যবান পরামর্শ প্রদানের বিনীত আবেদন।

 

যোগাযোগঃ Awscoffice@yahoo.com

ফোনঃ ০০২-০১৯০৪৪৫২১৬/০১৯৪৬৫৮২৯২